শেখ হাসিনার পতনের পর গণভবনে সেজেছিল আনন্দ-উৎসবের নামাজ, খুশিতে কেঁদেছেন মানুষ

5 august, gonobhobon 2024

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর গণভবনের সামনে ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন এক দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। হাজারো মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন গণভবনের মূল ফটকের সামনে। সেদিন শুধু রাজনৈতিক বিজয়ের আনন্দই ছিল না, মানুষের মনে ছিল স্বস্তির অশ্রু, মুক্তির সুখ।

গণভবনের ফটক খুলে দেওয়ার পর ভেতরে ঢুকে অনেকে প্রথমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। কেউ সেজদায় লুটিয়ে পড়েন, কেউ মিলাদ পড়েন, আবার কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে কান্না জুড়ে দেন। কারও কারও মুখে তখন একটাই বাক্য, “আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিয়েছেন।”

কান্না আর দোয়ার মিশ্রণে ভরে উঠেছিল গণভবন

শুধু নামাজই নয়, অনেকেই ভেতরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কোরআন খতমের আয়োজন করেন। শিশুরা আনন্দে চিৎকার করে দৌড়াদৌড়ি করছিল, তরুণরা সেলফি তুলছিল মুক্ত গণভবনের ভেতরে। বৃদ্ধরা দাঁড়িয়ে শুধু তাকিয়ে ছিলেন—অনেকে ফিসফিস করে বলছিলেন, “এ দৃশ্য চোখে দেখার জন্যই হয়তো আজ বেঁচে আছি।”

সেদিনের গণভবন ছিল যেন এক মুক্ত মঞ্চ—কেউ পতাকা ওড়াচ্ছেন, কেউ জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন, আবার কেউ অঝোরে কাঁদছেন। এমন আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে গোটা জাতি।

5 august, gonobhobon 2024 picture

সারাদেশে আনন্দ-উল্লাসের বন্যা

শুধু গণভবন নয়, দেশের প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, গ্রামেও সেদিন ছিল একই আবহ। মানুষ রাস্তায় নেমে আতশবাজি ফোটায়, মিষ্টি বিতরণ করে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়—কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করছেন, কেউ আবার মসজিদে গিয়ে শোকরিয়া নামাজ আদায় করছেন।

এ যেন ছিল এক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিনের উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আবেগ একাকার হয়ে গিয়েছিল।

ইতিহাস বদলে দেওয়া ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট আজ

এরপরই ইতিহাস বদলে দেওয়া সেই ৫ আগস্ট দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার মিলিত শক্তিতে ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ শেষ হয়েছিল শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *