ফ্লোটিলা ‘কনসায়েন্স’ থেকে ভিডিও বার্তা: “আমরা অবরোধ ভাঙব, ফিলিস্তিন মুক্ত হবেই” — শহিদুল আলম

📅 বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

shahidul alam

তীব্র ঝড়ো আবহাওয়া ও ইসরায়েলি বাধা উপেক্ষা করে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘কনসায়েন্স’ এখনও গাজা উপত্যকার দিকে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ থেকে এই অভিযানে যোগ দেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমরা পিছু হটব না, অবরোধ ভাঙব এবং ফিলিস্তিন অবশ্যই মুক্ত হবে।”

আজ বৃহস্পতিবার জাহাজটির ডেক থেকে নিজের ফেসবুক লাইভে শহিদুল আলম এই বার্তা দেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে এগিয়ে চলা ‘কনসায়েন্স’

ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম জানান,

“আমরা গতকাল প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে দিয়ে এসেছি। এখন ঝড় কিছুটা কমেছে। ক্যাপ্টেন যত দ্রুত সম্ভব জাহাজটি এগিয়ে নিচ্ছেন। আমরা সুমুদ ফ্লোটিলার পেছনের অংশে আছি, অন্য জাহাজগুলো ইতোমধ্যেই গাজার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”

Ad Page

তিনি আরও জানান, গতরাতে সামনের জাহাজগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছিল। কিন্তু তারা এখনও সেই স্থানে পৌঁছায়নি।

“আমরা অবশ্যই সেখানে যাব। ইসরায়েলিদের হামলার কারণে আমরা কখনোই থেমে থাকব না,” — দৃঢ় কণ্ঠে বলেন এই আলোকচিত্রী।

ভিডিও বার্তার শেষ দিকে শহিদুল আলম বলেন,

“সমুদ্র এখন উত্তপ্ত। ঝড়ের আশঙ্কা রয়ে গেছে, বিদ্যুৎ চলে গেছে। সকাল থেকে বৃষ্টি থেমে গেছে। তবুও আমরা আমাদের পথে আছি। আমরা অবরোধ ভাঙব। ফিলিস্তিন মুক্ত হবে।”

এই বার্তাটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং ফিলিস্তিনের সমর্থকদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানে অংশ নিচ্ছে ৪৫টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান এবং প্রায় ৫০০ যাত্রী। এদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা। তাদের লক্ষ্য অবরোধের শিকার গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইসরায়েলের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ।

এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দেওয়া হচ্ছে — মানবিক সংকটে নীরব থাকা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

শহিদুল আলমের এই বার্তা শুধু একটি ভিডিও নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সাহস এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অনন্য প্রতীক। ঝড়, হামলা বা অবরোধ — কিছুই এই যাত্রাকে থামাতে পারবে না। বিশ্বের চোখ এখন ‘কনসায়েন্স’-এর দিকে, যা এগিয়ে চলেছে এক স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *