📆 রবিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৫

ইতিহাস গড়লেন সাবিদা থাইসেট: থাইল্যান্ডে প্রথম মুসলিম নারী মন্ত্রী
থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারীকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী সাবিদা থাইসেট (Sabida Thaiseth), যিনি নতুন মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই নিয়োগকে থাইল্যান্ডের সমাজে লিঙ্গ সমতা, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল তার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় সাবিদাকে নিয়োগ দেন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা এনে দিয়েছে।
১৯৮৪ সালের ১১ অক্টোবর জন্ম নেওয়া সাবিদা থাইসেট শৈশব থেকেই নেতৃত্বগুণ ও সমাজসেবায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।
- শিক্ষা: তিনি থাইল্যান্ডের বিখ্যাত আসাম্পশন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন।
- রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা: সাবিদা পূর্বে থাই সরকারের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- পারিবারিক পটভূমি: তিনি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তাঁর পিতা চাদা থাইসেত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী এবং একজন শীর্ষস্থানীয় প্রাদেশিক রাজনীতিক।
রাজনীতি ও প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ছাড়াও সাবিদা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কাজে সক্রিয় থেকেছেন। এই অভিজ্ঞতাই তাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত করেছে।
থাইল্যান্ডের নতুন মন্ত্রিসভায় সাবিদার অন্তর্ভুক্তি শুধু একজন ব্যক্তির পদোন্নতি নয়, বরং দেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর ক্ষমতায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। থাইল্যান্ডে মুসলিম জনগোষ্ঠী একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু হলেও রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
সাবিদার নিয়োগ সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। এটি দেখাচ্ছে যে ধর্ম বা লিঙ্গ আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের পথে বাধা নয়, বরং দক্ষতা ও যোগ্যতাই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় সংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত। সাবিদার মন্ত্রিত্বকে বিশ্লেষকরা সেই সমস্যাগুলোর সমাধানে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তিনি তার দায়িত্বের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বহুমুখিতা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের ভারসাম্য বজায় রেখে সমাজকে আরও সংহত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের সৃজনশীল শিল্প ও সাংস্কৃতিক অর্থনীতি প্রসারে ভূমিকা রাখবে।
সাবিদার নেতৃত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শুধু ঐতিহ্য ও শিল্পকলার সংরক্ষণ নয়, বরং আধুনিক প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণের দিকেও নজর দেবে। থাইল্যান্ডের বৈশ্বিক পর্যটন খাতে সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসার ঘটাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের সমন্বয়ে থাইল্যান্ডকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে তার সামনে।
সাবিদা থাইসেটের মন্ত্রিত্ব নারীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে। এটি প্রমাণ করছে যে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে ভবিষ্যতে নারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণ আরও প্রসারিত হবে এবং সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ঘটবে।


