🗓️ তারিখ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বন্ধুকে দেওয়া ‘প্রতিশ্রুতি’ রক্ষার অজুহাতে নববধূর সঙ্গে বাসরঘরে নিজের বন্ধুকেই পাঠিয়েছেন এক নববর। এ ঘটনার পর নববধূ আপত্তি জানিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আবু ঢানের ছেলে কেনতু মিয়া-র সঙ্গে পারিবারিকভাবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাশের ইউনিয়নের এক তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন কেনতু। কিন্তু বন্ধু শরীফ মিয়াকে দেওয়া কথিত “প্রতিশ্রুতি” রাখার জন্য নিজের পরিবর্তে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দেন সেই শরীফকে।
নববধূ বাধা দিলেও কেনতু মিয়া তাতে কর্ণপাত করেননি বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি পরিবার ও এলাকাবাসী মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে নববধূ লজ্জা ও অপমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই বন্ধুর মধ্যে আগে থেকেই অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা ছিল। এমনকি কোরবানির ঈদের সময় শরীফ নিজেও বিয়ে করেন এবং তখন কেনতুকে নিজের নববধূর সঙ্গে ‘বাসর’ করতে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন অনেকে। এবার সেই ঘটনার প্রতিশোধ বা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়েই কেনতু এমন কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতে পুরো গ্রামে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় এখন এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
নোয়াগাঁও এলাকায় গিয়ে সাংবাদিকরা কেনতু মিয়া ও শরীফ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের কাউকেই বাড়িতে পাননি। তবে শরীফ মিয়ার মা মানেদা আক্তার বলেন,
“আমি এসব কিছু জানি না। ওরা দুইজন অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। আমি বহুবার ছেলেকে বলেছি যেন ও (কেনতু) আমাদের বাড়িতে না আসে, কিন্তু তারা শোনেনি।”
মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে কেনতু মিয়া প্রথমে বলেন,
“বিষয়টি এখন মীমাংসা হয়েছে।”
তবে ‘প্রতিশ্রুতির’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া নিশ্চিত করে বলেন,
“ঘটনাটি সত্যি। এ নিয়ে গ্রাম্য বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”
অন্যদিকে, কেনতু মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী জাফরিন আক্তার বলেন,
“শরীফের বউ যদি প্রথমে বাধা দিত, তাহলে আজ এমন ঘটনা ঘটতো না। এখন তিনটি পরিবার লজ্জায় পড়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটি নজরে এনেছে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি শামসুল আলম শাহ) বলেন,
“বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু একটি পারিবারিক সমস্যা নয়— এটি সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সম্পর্কের বিকৃত চিত্র তুলে ধরছে।
মানবিক মর্যাদা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “বন্ধুত্ব যদি এভাবে বিকৃত হয়, তবে মানবতার জায়গা কোথায়?”
বর্তমানে নববধূ মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তারা প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেছেন।


