📅 রবিবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

র রাজধানী আবারও বিক্ষোভে উত্তাল। প্রেসিডেন্ট র বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড, নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ডজনখানেক পুলিশ, সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারী আহত হন।
এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত হয় ২০ সেপ্টেম্বর, যখন সরকার দেশের পেনশন ব্যবস্থায় নতুন সংস্কার ঘোষণা করে। এই সংস্কার অনুযায়ী, এখন থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে হবে। কিন্তু এটি ছিল কেবল আগুনে ঘি ঢালার মতো—বহুদিন ধরে চলা দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপরাধের বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহিতার অভাব নিয়েই আসল ক্ষোভ জমে ছিল তরুণ সমাজে।
র ল্যাটিন আমেরিকান স্টাডিজের অতিথি অধ্যাপক বলেন, “পেরুতে জনঅসন্তোষ নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ চলছে, যা আজ বিস্ফোরিত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট পদে বোলুয়ার্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ডজনখানেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলেও সেগুলোর কোনো দায় সরকার নেয়নি।
র সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বোলুয়ার্টের জনপ্রিয়তা মাত্র ২.৫% এবং সংসদের ৩%। এই সংখ্যাগুলো থেকেই বোঝা যায় সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কতটা গভীর।
তরুণদের বিদ্রোহ: পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় জেনারেশন জেড
বর্তমান আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে তরুণরা, যারা আগেও ও -এর মতো দেশে গণআন্দোলনের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পেরুতে এই তরুণরা “ওয়ান পিস” নামের জনপ্রিয় জাপানি মাঙ্গার একটি প্রতীকের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদের বার্তা দিচ্ছে — খড়ের টুপি পরা একটি খুলি, যা স্বৈরশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
একজন তরুণ প্রতিবাদকারী বলেন, “ওয়ান পিসের চরিত্র লুফি যেভাবে অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করে, আমরাও ঠিক সেই কাজটাই করতে চাই। পেরুর জনগণকে দুর্নীতির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে চাই।”
পরিসংখ্যান সংস্থার মতে, পেরুর মোট জনসংখ্যার ২৭% এর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। ছাত্র আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি এই মৃত্যু ও দুর্নীতিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখাতে দেখে। সরকার আমাদের ভয় দেখানোর বদলে আমাদের ভয় পাওয়া উচিত।”
অধ্যাপক বার্টের মতে, এই আন্দোলনকে শুধু পেরুর প্রেক্ষাপটে দেখলে ভুল হবে। বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশই আজ চাপের মুখে, এবং পেরু তার একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র। সরকার বিচারব্যবস্থা, ওয়াচডগ সংস্থা এবং প্রসিকিউটরদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে, যা ১৯৯০-এর দশকে র শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, আগের বিক্ষোভগুলো বহুবার সরকারের দমননীতি রুখে দিয়েছে এবং একাধিক প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।
বার্ট বলেন, “গণতান্ত্রিক শক্তি অনেক সময় অবিশ্বাস্যভাবে একত্রিত হয়ে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এখন দেখার বিষয় হলো এই আন্দোলন কতটা সময় ধরে টিকে থাকতে পারে।”
নেপালের র্যাপার থেকে মেয়র, এবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে জেনারেশন জেডদের পছন্দের মুখ


